ভাই, যৌবনে শরীরের রক্ত পানি করে বিদেশ খাটছেন, কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি—যখন শরীরে শক্তি থাকবে না, তখন কে দেখবে আপনাকে? সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের পর পেনশন পান, কিন্তু আমরা প্রবাসীরা? আমাদের কি কোনো ভবিষ্যৎ নেই?
আলহামদুলিল্লাহ! দিন বদলেছে। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের সুরক্ষার জন্য চালু করেছে “সর্বজনীন পেনশন স্কিম (প্রবাস স্কিম)”। এখন আপনিও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো শেষ বয়সে মাসে মাসে পেনশন পাবেন। আজকের গাইডে জানব ২০২৬ সালে কীভাবে ঘরে বসেই এই স্কিমে রেজিস্ট্রেশন করবেন।
প্রবাস স্কিম আসলে কী? কেন করবেন?
সহজ কথায়, আপনি বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দেবেন। আর ৬০ বছর বয়সের পর থেকে সরকার আপনাকে আমৃত্যু (যতদিন বেঁচে থাকবেন) প্রতি মাসে পেনশন দেবে।
কেন এটি সেরা?
১. সরকারি গ্যারান্টি: এখানে আপনার টাকার গ্যারান্টর খোদ রাষ্ট্র। ব্যাংক ডুবলেও আপনার পেনশন বন্ধ হবে না।
২. আজীবন সুবিধা: আপনি ৭৫ বা ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচলেও পেনশন পেতেই থাকবেন।
৩. নমিনির সুবিধা: যদি পেনশনার মারা যান, তবে তার নমিনি বা পরিবার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন।
মাসিক কিস্তি কত? (২০২৬ আপডেট)
প্রবাস স্কিমে আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কিস্তি ঠিক করতে পারেন। বর্তমানে ৩টি স্ল্যাব বা ধাপ রয়েছে:
- ৫,০০০ টাকা (মাসিক)
- ৭,৫০০ টাকা (মাসিক)
- ১০,০০০ টাকা (মাসিক)
আপনি যত বেশি কিস্তি দেবেন, মেয়াদ শেষে আপনার পেনশনের পরিমাণ তত বেশি হবে। এছাড়া আপনি চাইলে প্রতি মাসে না দিয়ে ৩ মাস বা ১ বছর পর পর একবারেও টাকা জমা দিতে পারেন।
কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন? (ধাপে ধাপে নিয়ম)
২০২৬ সালে আপনাকে আর কোনো অফিসে দৌড়াতে হবে না। বিদেশে বসেই মোবাইলে এটি চালু করা যায়।
১. ওয়েবসাইট: প্রথমে upension.gov.bd ওয়েবসাইটে যান অথবা ‘UPension’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
২. তথ্য দিন: আপনার এনআইডি (NID) নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
৩. স্কিম নির্বাচন: অপশন থেকে “প্রবাস স্কিম” সিলেক্ট করুন।
৪. পেমেন্ট: সোনালী ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবহার করে প্রথম কিস্তি জমা দিলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট!
টাকা পাঠানোর জন্য বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের ব্যাঙ্কিং গাইডটি দেখুন।
বৈধ পথে টাকা পাঠানোর নিয়ম জানুন
বন্ড নাকি পেনশন: কোনটি আপনার জন্য ভালো?
অনেকেই ওয়েজ আর্নার্স বন্ড এবং পেনশন স্কিমের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
- বন্ড: আপনার হাতে যদি একবারে অনেক টাকা (যেমন ১-২ লাখ) থাকে এবং আপনি ৫ বছর পর লাভ চান, তবে “ওয়েজ আর্নার্স বন্ড“ সেরা।
- পেনশন: আর যদি আপনি অল্প অল্প করে জমিয়ে বৃদ্ধ বয়সের সুরক্ষা চান, তবে “পেনশন স্কিম“ সেরা।
ওয়েজ আর্নার্স বন্ডের সুবিধা সম্পর্কে পড়ুন
এফ এ কিউ (FAQ) – পেনশন নিয়ে আপনার প্রশ্ন
প্রশ্ন: আমি যদি ১০ বছর পর দেশে একেবারে চলে আসি, তবে কি স্কিম চলবে?
উত্তর: জি, চলবে। দেশে ফিরে আসার পর আপনি আপনার স্কিমটি সাধারণ নাগরিক স্কিমে (যেমন ‘প্রগতি’ বা ‘সুরক্ষা’) কনভার্ট করে চালিয়ে যেতে পারবেন।
প্রশ্ন: মাঝপথে টাকা তোলা যাবে কি?
উত্তর: পেনশনের নিয়ম হলো মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকা তোলা যায় না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন চিকিৎসা বা ঘর তৈরি) আপনি জমানো টাকার ৫০% পর্যন্ত লোন হিসেবে নিতে পারবেন।
প্রশ্ন: রেজিস্ট্রেশন করতে কি পাসপোর্টের কপি লাগবে?
উত্তর: প্রবাস স্কিমের জন্য এনআইডি (NID) থাকা বাধ্যতামূলক নয়, পাসপোর্ট দিয়েও খোলা যায়। তবে দ্রুত এনআইডি করে নেওয়া ভালো।