⚡ Quick Bites (TL;DR)
- ফ্রি ইভাকুয়েশন (উদ্ধার): যুদ্ধ বা চরম ইমার্জেন্সিতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে বিশেষ ফ্লাইটে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনে। এর জন্য কাউকে টাকা দেবেন না।
- ট্রাভেল পাস (Travel Pass): কোম্পানির কাছে পাসপোর্ট আটকা থাকলে বা হারিয়ে গেলে, এম্বাসি থেকে একদিনের নোটিশে ইমার্জেন্সি ‘ট্রাভেল পাস’ নিয়ে দেশে ফেরা যায়।
- অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে নিজের নাম ও ঠিকানা রেজিস্টার করে রাখুন।
ভাই, প্রবাসে যখন যুদ্ধের সাইরেন বাজে বা চরম ইমার্জেন্সি তৈরি হয়, তখন নিজের দেশের মাটির মতো নিরাপদ আর কিছুই মনে হয় না। কিন্তু এই বিপদের সময় যখন আপনি দেখেন এয়ারপোর্ট বন্ধ বা আপনার হাতে নিজের পাসপোর্টটুকুও নেই, তখন নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ মনে হয়।
সব রাস্তা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন একজন প্রবাসীর শেষ এবং সবচেয়ে মজবুত ভরসার জায়গা হলো সে দেশে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ দূতাবাস’ (Bangladesh Embassy) বা কনস্যুলেট।
আমাদের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও প্রবাসীদের জীবন রক্ষায় জরুরী সেফটি গাইড এর ধারাবাহিকতায় আজ আমরা জানব, চরম বিপদের মুহূর্তে কীভাবে আপনি বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিনামূল্যে উদ্ধার (Evacuation) বা ট্রাভেল পাস পাবেন।
ইভাকুয়েশন (Evacuation) বা সরকারি উদ্ধার অভিযান কী?
যখন কোনো দেশে যুদ্ধ বা বড় ধরনের দুর্যোগ শুরু হয়, তখন সাধারণ কমার্শিয়াল ফ্লাইটগুলো সাথে সাথে বাতিল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের বিপদে ফেলে আসতে পারে না।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার তখন স্পেশাল ফ্লাইট বা সামরিক বিমান পাঠিয়ে আটকে পড়া প্রবাসীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনে। একেই বলে ‘ইভাকুয়েশন’ (Evacuation)। যদি ইমার্জেন্সিতে আপনার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং এয়ারপোর্টে আটকা পড়েন, তবে সাথে সাথে দূতাবাসের ইমার্জেন্সি নাম্বারে যোগাযোগ করতে হবে।
ইভাকুয়েশনের সময় বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, নারী এবং শিশুদের আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তাই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলেই এম্বাসির হটলাইনে কল দিয়ে নিজের নাম তালিকাভুক্ত (Register) করে রাখাটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
পাসপোর্ট না থাকলে ট্রাভেল পাস (Travel Pass) কীভাবে পাবেন?
অনেক প্রবাসী ভাইয়ের সবচেয়ে বড় টেনশন হলো—”আমার পাসপোর্ট তো কোম্পানির কাছে বা হারিয়ে গেছে, আমি দেশে ফিরব কীভাবে?” ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এর সমাধান দূতাবাসের কাছে আছে।
আপনার পাসপোর্ট না থাকলেও দূতাবাস আপনাকে একটি স্পেশাল কাগজ দেবে, যার নাম ‘ট্রাভেল পাস’ (Travel Pass) বা আউটপাস। এটি দেখালে আপনাকে বিনা বাধায় ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে। তবে এটি পাওয়ার জন্য আপনার নিজের আইডেন্টিটি বা পরিচয় প্রমাণ করতে হবে।
এজন্যই আমরা সব সময় বলি, আগে থেকেই পাসপোর্ট ও জরুরী ডকুমেন্টস সুরক্ষিত রাখুন এবং মোবাইলে ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখুন। মোবাইলে পাসপোর্টের ছবি বা ন্যাশনাল আইডি (NID) কার্ডের কপি দেখাতে পারলেই এম্বাসি আপনাকে খুব দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যু করে দেবে।
মিজানুর রহমানের প্রো-টিপ: এম্বাসির সাথে যোগাযোগের স্মার্ট উপায়
Mizanur’s Pro Tip: ভাই, যুদ্ধের ডামাডোলে হাজার হাজার মানুষ একসাথে দূতাবাসে কল দেয়, যার কারণে অনেক সময় হটলাইন নম্বরগুলো বিজি (Busy) থাকে। তখন প্যানিক করবেন না।
কল না ঢুকলে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মেসেজ দিন অথবা তাদের দেওয়া ইমার্জেন্সি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর এবং বর্তমান লোকেশন লিখে টেক্সট করে রাখুন। এম্বাসির একটি বিশেষ রেসকিউ টিম (Rescue Team) এগুলো মনিটর করে এবং সিরিয়াল অনুযায়ী প্রবাসীদের সাথে নিজেরাই যোগাযোগ করে।
দালাল থেকে সাবধান: এম্বাসির সাহায্য সম্পূর্ণ ফ্রি!
বিপদের এই চরম মুহূর্তে এক শ্রেণির অসাধু দালাল চক্র গড়ে ওঠে। তারা প্রবাসীদের বলে, “আমাকে ৫ হাজার টাকা দে, আমি এম্বাসি থেকে তোর নাম লিস্টে আগে ঢুকিয়ে দিচ্ছি।”
বিশ্বাস করুন ভাই, বাংলাদেশ সরকারের ইভাকুয়েশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ফ্রি এবং স্বচ্ছ। এর জন্য কোনো দালালকে এক পয়সাও দেবেন না। দালালরা মূলত আপনার আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে যায়। এই সময়ে আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকতে হলে ব্যাংক বন্ধ অবস্থায় প্রবাস থেকে নিরাপদে টাকা পাঠানোর অল্টারনেটিভ উপায়গুলো অবশ্যই জেনে রাখবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আমার ভিসার মেয়াদ শেষ (Overstay), আমি কি এম্বাসির সাহায্য পাব?
অবশ্যই পাবেন। ইমার্জেন্সি বা যুদ্ধাবস্থায় বৈধ বা অবৈধ সব প্রবাসীই সমানভাবে সরকারি সাহায্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। ভিসা না থাকলেও ইভাকুয়েশনের সময় সরকার আপনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবে, এতে কোনো জরিমানা বা শাস্তি হবে না।
দূতাবাস যদি অনেক দূরে হয়, তাহলে কীভাবে পৌঁছাব?
যাতায়াত করা যদি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে রুম থেকে বের হবেন না। আপনার সঠিক লোকেশন এবং অবস্থা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এম্বাসিকে জানিয়ে রাখুন। তারা পরিস্থিতি বুঝে আপনাদের রেসকিউ (Rescue) করার ব্যবস্থা করবে।
ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরলে কি পরে আবার বিদেশ যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, যাবে। ইমার্জেন্সি ট্রাভেল পাস মানে আপনাকে ব্ল্যাকলিস্ট করা নয়। এটি শুধু বিপদের সময় দেশে ফেরার একটি সাময়িক ডকুমেন্ট। দেশে ফিরে নতুন পাসপোর্ট করে আপনি আবারও বৈধভাবে যেকোনো দেশে যেতে পারবেন।