ভাই, আপনি কি দুবাই যাওয়ার জন্য কোনো এজেন্সির হাতে ১ লাখ টাকা তুলে দিচ্ছেন? থামুন! আপনার কষ্টার্জিত টাকা এভাবে জলে ফেলবেন না। ২০২৬ সালে দুবাইয়ের ভিজিট ভিসা পাওয়া পানির মতো সহজ এবং খরচও আপনার কল্পনার চেয়ে অনেক কম।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের দুবাই ভিজিট ভিসার ‘আসল রেট‘ বলে দেব, যা এজেন্সিরা গোপন রাখে। সাথে জানব কীভাবে সঠিক নিয়মে আবেদন করলে আপনার ভিসা রিজেক্ট হবে না এবং এয়ারপোর্টে কোনো ঝামেলা হবে না।
দুবাই ভিজিট ভিসা কত প্রকার?
বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ইউএই (UAE) সরকার প্রধানত ২ ধরনের ভিজিট ভিসা দিচ্ছে:
১. ৩০ দিনের ভিসা (Short Term): যারা শুধু ঘুরতে বা অল্প সময়ের জন্য আত্মীয়ের কাছে যেতে চান।
২. ৬০ দিনের ভিসা (Long Term): যারা দুবাইতে গিয়ে কাজ খুঁজতে চান, তাদের জন্য এই ২ মাসের ভিসাটি সেরা। এতে আপনি হাতে যথেষ্ট সময় পাবেন।
২০২৬ সালে ভিসার আসল দাম (Real Price List)
দালালরা আপনার কাছে ৮০ হাজার বা ১ লাখ টাকা চাইবে। কিন্তু নিচের চার্টটি দেখুন এবং মিলিয়ে নিন:
- ৩০ দিনের ভিসা: সব খরচসহ (ইনস্যুরেন্স + সার্ভিস চার্জ) প্রায় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা।
- ৬০ দিনের ভিসা: সব খরচসহ প্রায় ১৪,০০০ থেকে ১৬,০০০ টাকা।
এর বাইরে শুধু বিমান ভাড়া (৪০-৫০ হাজার টাকা) এবং সাথে নেওয়ার জন্য হাতখরচ (Show Money) লাগবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১ লাখ টাকার নিচেই আপনি দুবাই পৌঁছাতে পারবেন।
ভিসা করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
দুবাই ভিসার জন্য খুব বেশি কাগজ লাগে না। শুধু নিচের ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে দিলেই হয়:
- পাসপোর্টের রঙিন স্ক্যান কপি (মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে)।
- ১ কপি সদ্য তোলা ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
- ন্যাশনাল আইডি কার্ড (NID) বা জন্মনিবন্ধন (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে)।
অনলাইনে ভিসা চেক করার নিয়ম
অনেকে টাকা দেওয়ার পর ভুয়া ভিসা নিয়ে এয়ারপোর্টে যান এবং ধরা খান। তাই টাকা দেওয়ার আগে অনলাইনে ভিসা চেক করে নিন।
১. ICP ওয়েবসাইট: গুগলে ICP Smart Services লিখে সার্চ দিন।
২. পাসপোর্ট তথ্য: ‘File Validity’ অপশনে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর এবং জাতীয়তা (Bangladeshi) সিলেক্ট করুন।
৩. স্ট্যাটাস: যদি দেখেন ‘Active’ লেখা আছে এবং আপনার নাম ঠিক আছে, তবে বুঝবেন ভিসা ১০০% আসল।
ভিসা তো পেলেন, কিন্তু দুবাইতে গিয়ে কীভাবে কাজ খুঁজবেন এবং ওয়ার্ক পারমিটে কনভার্ট করবেন? সেই গাইডটি মিস করবেন না।
ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ খোঁজার নিয়ম দেখুন
এয়ারপোর্টে ‘কন্ট্রাক্ট’ বা ঝামেলা এড়ানোর উপায়
ইদানীং ভিজিট ভিসার যাত্রীদের এয়ারপোর্টে আটকাচ্ছে। বাঁচার উপায় কী?
- রিটার্ন টিকেট: অবশ্যই কনফার্ম রিটার্ন টিকেট সাথে রাখবেন।
- হোটেল বুকিং: দালালের দেওয়া ভুয়া বুকিং না নিয়ে, নিজে Booking.com থেকে পে-এট-হোটেল (Pay at Hotel) অপশনে বুকিং দিন।
- টাকা: সাথে অন্তত ৫০০ ডলার বা সমপরিমাণ দিরহাম ক্যাশ রাখুন।
এফ এ কিউ (FAQ) – ভিজিট ভিসা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্ন: ভিজিট ভিসার মেয়াদ কি বাড়ানো যায়?
উত্তর: জি, যায়। আপনি দুবাইতে থাকা অবস্থায় এজেন্সির মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে আরও ৩০ বা ৬০ দিন মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। একে ‘Visa Extension’ বা ‘A2A’ বলে।
প্রশ্ন: আমার পাসপোর্টে কি ‘ভিজিট‘ লেখা থাকবে?
উত্তর: দুবাই এখন ই-ভিসা (E-Visa) দেয়। তাই পাসপোর্টে কোনো সিল বা স্টিকার থাকে না। আপনাকে একটি পিডিএফ (PDF) পেপার দেওয়া হবে, সেটি প্রিন্ট করে সাথে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: ভিজিট ভিসায় গিয়ে কি কাজ করা বৈধ?
উত্তর: না, ভিজিট ভিসায় কাজ করা অবৈধ। তবে আপনি কাজ খুঁজতে পারবেন। কাজ পেলে কোম্পানি আপনাকে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট লাগিয়ে দেবে, তারপর কাজ শুরু করবেন।