ভাই, আপনি যদি ভিজিট ভিসায় দুবাই গিয়ে কাজ খোঁজার পরিকল্পনা করেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য লাইফ সেভার হতে পারে। অনেকেই দেশ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসেন, কিন্তু দুবাইয়ের খরচ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় ১ মাসেই সব টাকা শেষ করে খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
আজকের গাইডে আমি আপনাদের ২০২৬ সালের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী—দুবাইয়ের দেইরা, বুর দুবাই বা সোনাপুরে থাকার খরচ (Bed Space), খাওয়া খরচ এবং যাতায়াত ভাড়ার একদম পাই-টু-পাই হিসাব দেব।
থাকার খরচ: বেড স্পেস ভাড়া (Bed Space Rent)
দুবাইতে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া অনেক ব্যয়বহুল, তাই প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত “বেড স্পেস” বা মেসে থাকেন। মানে একটি রুমে ৪-৬ জন মিলে থাকা। এলাকাভেদে ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. দেইরা ও বুর দুবাই (শহরের ভেতরে):
- ভাড়া: ৪০০ থেকে ৬০০ দিরহাম (প্রতি সিট)।
- সুবিধা: মেট্রো কাছে, কাজ খোঁজা সহজ।
২. সোনাপুর ও আল–কুোজ (লেবার এরিয়া):
- ভাড়া: ২৫০ থেকে ৩৫০ দিরহাম।
- সুবিধা: ভাড়া কম, কিন্তু শহর থেকে একটু দূরে।
৩. আজমান বা শারজাহ (দুবাইয়ের পাশে):
- ভাড়া: ২০০ থেকে ৩০০ দিরহাম।
- টিপস: এখানে ভাড়া কম হলেও দুবাইতে এসে কাজ খুঁজতে বাস ভাড়া বেশি লেগে যায়।
খাওয়ার খরচ: মেস বনাম হোটেল (Food Cost)
- নিজে রান্না (মেস): ৫-৬ জন মিলে বাজার করে রান্না করলে মাসে খরচ হবে ২০০ থেকে ২৫০ দিরহাম। এটিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়।
- হোটেল: সস্তা বাঙালি হোটেলেও যদি ৩ বেলা খান, তবুও মাসে ৫০০-৬০০ দিরহাম খরচ হয়ে যাবে। তাই দেশ থেকে আসার সময় কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ।
যাতায়াত খরচ: মেট্রো ও বাস (Transport)
দুবাইতে ট্যাক্সি ভাড়া অনেক বেশি। তাই আপনার ভরসা হলো মেট্রো এবং বাস।
- নোল কার্ড (Nol Card): এটি হলো দুবাইয়ের ট্রাভেল কার্ড। সিলভার নোল কার্ড করে নিলে মেট্রো ও বাসে ভাড়া কম লাগে।
- মাসিক খরচ: আপনি যদি প্রতিদিন ইন্টারভিউ দিতে বের হন, তবে মাসে ১৫০ থেকে ২০০ দিরহাম যাতায়াত খরচ ধরতেই হবে।
মোট মাসিক বাজেট (Job Seeker Budget)
তাহলে একজন নতুন প্রবাসীর মাসে মোট কত টাকা লাগবে?
- থাকা (বেড স্পেস): ৪০০ দিরহাম
- খাওয়া (মেস): ২৫০ দিরহাম
- যাতায়াত ও মোবাইল: ১৫০ দিরহাম
- মোট: ৮০০ দিরহাম (প্রায় ২৫,০০০ – ২৮,০০০ টাকা)।
অর্থাৎ, হাতে অন্তত ৩ মাসের খরচ (প্রায় ১ লাখ টাকা) নিয়ে দুবাই আসা উচিত।
চাকরি পেলে বেতন কত পাবেন, সেটা আমাদের আগের পোস্টে দেওয়া আছে। মিলিয়ে নিন আপনার খরচের সাথে পোষাবে কি না।
দুবাইয়ের কাজের বেতন ও তালিকা দেখুন
এফ এ কিউ (FAQ) – থাকা-খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্ন: বেড স্পেস ভাড়া কি অগ্রিম দিতে হয়?
উত্তর: জি, সাধারণত ১ মাসের ভাড়া অগ্রিম দিতে হয়। কোনো জামানত বা ডিপোজিট লাগে না।
প্রশ্ন: দেশ থেকে কি চাল–ডাল নেওয়া যাবে?
উত্তর: চাল নেওয়া কঠিন (ওজন বেশি), তবে মসলা, শুটকি বা বিস্কুট নিতে পারেন। এতে প্রথম দিকে অনেক টাকা বাঁচে। বিমান ভাড়ার পোস্টে আমরা ব্যাগেজ রুলস নিয়ে কথা বলেছি।
প্রশ্ন: ওয়াইফাই বা ইন্টারনেট খরচ কত?
উত্তর: বেশিরভাগ বেড স্পেস ভাড়ার সাথেই হাই-স্পিড ওয়াইফাই ফ্রি থাকে। আলাদা বিল দিতে হয় না।