ভাই, লাখ টাকা খরচ করে দুবাই যাচ্ছেন, কিন্তু জানেন কি সেখানে কোন কাজের দাম সবচেয়ে বেশি? ভুল কাজে গেলে সারা মাস খেটে যা পাবেন, তা দিয়ে নিজের থাকা-খাওয়াই কষ্টকর হবে। আর সঠিক কাজ জানলে মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করা পানির মতো সহজ।
আজকের এই গাইডে আমি ২০২৬ সালে দুবাইতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশি বেতনের ৫টি কাজের তালিকা ও তাদের বর্তমান বেতন কাঠামো তুলে ধরব।
১. ফুড ডেলিভারি রাইডার (Talabat/Noon Rider)
বর্তমানে তরুণ প্রবাসীদের কাছে এটি ১ নম্বর পছন্দের কাজ।
- কেন সেরা: এখানে ফিক্সড বেতন নেই, আপনি যত ডেলিভারি দেবেন, তত ইনকাম। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা যায়।
- বেতন: একজন পরিশ্রমী রাইডার মাসে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ দিরহাম (প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা) অনায়াসে ইনকাম করতে পারেন।
- যোগ্যতা: মোটরবাইক চালানোর লাইসেন্স থাকতে হবে (যা দুবাইতে গিয়ে নেওয়া যায়)।
২. সিকিউরিটি গার্ড (Security Guard – SIRA/PSBD)
যদি আপনার উচ্চতা ভালো হয় এবং বেসিক ইংরেজি জানেন, তবে এটি আপনার জন্য রাজকীয় চাকরি।
- বেতন: ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ দিরহাম (ওভারটাইমসহ আরও বেশি)। থাকা-খাওয়া কোম্পানি দেয়।
- লাইসেন্স: দুবাইয়ের জন্য সিরা (SIRA) এবং আবুধাবীর জন্য পিএসবিডি (PSBD) লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করতে হয়।
৩. কন্সট্রাকশন ও টেকনিশিয়ান (Skilled Labor)
দুবাইতে সবসময় বিল্ডিংয়ের কাজ চলে। তাই রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা এসি টেকনিশিয়ানের চাহিদা কখনোই কমে না।
- বেতন: দক্ষ কারিগররা মাসে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ দিরহাম পান। হেল্পাররা ১,০০০ – ১,২০০ দিরহাম পান।
- সুবিধা: বেশিরভাগ কোম্পানি থাকা ও ট্রান্সপোর্ট ফ্রি দেয়।
৪. ক্লিনার ও হাউসকিপিং (Cleaning Jobs)
যারা খুব বেশি পড়াশোনা বা কাজ জানেন না, তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। বিভিন্ন শপিং মল, অফিস বা হোটেলের ক্লিনার হিসেবে কাজ পাওয়া সহজ।
- বেতন: ১,০০০ থেকে ১,৫০০ দিরহাম।
- টিপস: ভালো হোটেলে কাজ করলে বেতনের চেয়ে টিপস (Baksheesh) বেশি পাওয়া যায়।
৫. ড্রাইভিং (Taxi/Private Driver)
দুবাইতে লাইসেন্স পাওয়া একটু কঠিন ও ব্যয়বহুল, কিন্তু একবার লাইসেন্স পেলে আপনার জীবন সেট।
- বেতন: একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার বা প্রাইভেট ফ্যামিলি ড্রাইভার মাসে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ দিরহাম পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
কাজ খুঁজবেন কীভাবে? (ভিজিট টু ওয়ার্ক)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই কাজগুলো পাবেন কীভাবে? ১. ভিজিট ভিসা: প্রথমে ২ মাসের ভিজিট ভিসায় দুবাই যান। ২. সিভি ড্রপ: বিভিন্ন কোম্পানির অফিসে সরাসরি গিয়ে সিভি জমা দিন। ৩. অনলাইন: Dubizzle, Indeed বা LinkedIn-এ চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করুন।
কীভাবে ভিজিট ভিসা পাবেন এবং খরচ কত, তা আমাদের আগের গাইডে বিস্তারিত বলা আছে।
দুবাই ভিজিট ভিসার আসল খরচ জানুন
এফ এ কিউ (FAQ) – কাজ ও বেতন নিয়ে প্রশ্ন
প্রশ্ন: দুবাইতে সর্বনিম্ন বেতন (Minimum Wage) কত?
উত্তর: সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো মিনিমাম ওয়েজ নেই, তবে সাধারণত বেসিক স্যালারি ৮০০-১০০০ দিরহামের নিচে হওয়া উচিত নয়। এর সাথে থাকা-খাওয়া ও ওভারটাইম যুক্ত হয়।
প্রশ্ন: ইংরেজি না জানলে কি ভালো কাজ পাওয়া যাবে?
উত্তর: কন্সট্রাকশন বা ক্লিনারের কাজের জন্য ইংরেজির দরকার নেই। কিন্তু সিকিউরিটি, সেলস বা ড্রাইভিংয়ের জন্য বেসিক ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: কোম্পানি কি ভিসা খরচ দেয়?
উত্তর: নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিটের (Employment Visa) সব খরচ কোম্পানির বহন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ছোট কোম্পানি কর্মীদের বেতন থেকে ভিসার টাকা কেটে নেয়। জয়েেন করার আগে এটি ক্লিয়ার হয়ে নেবেন।